বগুড়া সদর উপজেলায় অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে ২০ জন নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার সকাল ১১টায় সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের হাতে এসব সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল ওয়াজেদ। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে এমন কার্যক্রম নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল। তিনি বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করার এ ধরনের উদ্যোগ অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, বিএডিসি বগুড়ার সহকারী পরিচালক মাসুদ পারভেজ, বগুড়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা বিএনপি নেতা রাজু হোসেন পাইকারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, তিন মাসব্যাপী বিনামূল্যের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এতে তারা নিজে আয়ের পথ তৈরি করার পাশাপাশি পরিবারেও আর্থিক সহায়তা করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন নিউজটোয়েন্টিফোর বগুড়ার রিপোর্টার আব্দুস সালাম বাবু। উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কর্মকর্তা মো. মামুন, সমকাল উত্তরাঞ্চল প্রতিবেদক লিমন বাশার, কালের কণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার টিএম মামুন, নিজস্ব প্রতিবেদক আতিকুর রহমান, ফটোসাংবাদিক ঠান্ডা আজাদ, আল আমিন, মামুনুর রশিদ, বাংলা নিউজ মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার জুয়েলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক ও শুভসংঘের সংগঠকবৃন্দ।
উপকারভোগী নারীরা সেলাই মেশিন পেয়ে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, এই সহায়তা তাদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। স্বল্প আয়ের সংসারে তারা এখন স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এবং সন্তানদের লেখাপড়ার খরচেও সহায়তা করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় সারা দেশে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে বসুন্ধরা গ্রুপের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বক্তারা বলেন, দেশের অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানও যদি এভাবে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এগিয়ে আসে, তাহলে নারী উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।
ইউএনও আব্দুল ওয়াজেদ আরও বলেন, নারী উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এ ধরনের বেসরকারি কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং এটি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ ও সহায়তার সমন্বয়ে এই নারীরা ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। বসুন্ধরা গ্রুপের সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে পরিচালিত বসুন্ধরা শুভসংঘ-এর এই কার্যক্রমকে এলাকাবাসীও সাধুবাদ জানিয়েছেন।
খুলনা গেজেট/এমএম

